মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

রেড ক্রিসেন্ট

রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সমাজের বিভিন্ন সেবামুলক কাজে সর্বদাই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইউনিটের সদস্যরা অত্যন্ত গতিশীল ও কর্মমূখরভাবে ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করে আসছে। কার্যক্রমগুলোর মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী আয়োজন, রক্ত সংগ্রহ, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ আয়োজন, দূর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা প্রদান, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন  প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

 

মূলনীতি

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের মূল মতবাদ সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত হয় ১৯৬৫ সালের ২০তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে “ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপলস্ অফ দ্য মুভমেন্ট” অনুযায়ী। এই মতবাদ রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় মানবীয় কাজের ক্ষেত্র ও পরিধি নির্দিষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি এই কার্যক্রমের আদর্শ ও মানবীয় মূল্যবোধ প্রচারের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিও এনে দেয় এই মতবাদ।

মানবতা

জাতিধর্মের বিভেদ ভুলে যুদ্ধক্ষেত্রের আহতদের সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সূচনা করে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও ক্রিসেন্ট কার্যক্রম আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে মানুষের যেকোন দুঃখ-দুর্দশায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ায় সবসময় প্রস্তুত। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যরক্ষার মাধ্যমে তাদের মানুষ হিসেবে পূর্ণ মর্যাদা দেয়াই এর লক্ষ্য। বিশ্বের সবার মাঝে পারস্পরিক সমঝোতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা ও অটুট শান্তি প্রতিষ্ঠা এর মূল বাণী।

সমদর্শিতা

রেড ক্রস ও ক্রিসেন্ট জাতি, বর্ণ, গোত্র, ধর্ম বা রাজনৈতিক মতবাদে কোন ধরনের বিভেদ করে না। যেকোন ব্যক্তির কষ্ট উপশমের চেষ্টাতেই ব্রতি এই প্রতিষ্ঠান দুটো, এখানে বেশি গুরুত্ব পায় শুধু তারাই যাদের সাহায্যের প্রয়োজন অন্যদের থেকে বেশি।

নিরপেক্ষতা

সর্বসাধারণের বিশ্বাস অর্জনের লক্ষ্যে রেড ক্রস ও ক্রিসেন্ট কখনো কোন ধরনের রাজনৈতিক, বর্ণবাদী, ধর্মীয় বা আদর্শবাদী কোন্দলে বা বিভেদে পক্ষপাতিত্ব করে না।

স্বাধীনতা

রেড ক্রস ও ক্রিসেন্ট মূলত কারো অধীন নয়। যেকোন দেশের আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকারী বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের সহায়তা করলেও এই প্রতিষ্ঠান কখনোই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসে না।

স্বেচ্ছাসেবা

এই কার্যক্রমে প্রত্যেকেই স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে, কোন ধরনের ব্যক্তিগত বা দলগত লাভের আশা কেউ করে না।

একতা

যেকোন দেশে শুধুমাত্র একটি রেড ক্রস বা রেড ক্রিসেন্ট থাকে। এই সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই এই প্রতিষ্ঠান তার কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

সার্বজনীনতা

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রমে সবাই সমঅধিকার সম্পন্ন, যারা সবাই একই পরিমাণ দায়িত্ব পালন করে এবং বিশ্বব্যাপী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়।
 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রপতি আমাদের সোসাইটির এক্স- অফিসিও। রাষ্ট্রপতি প্রতি ৩ বছর পর পর সোসাইটির চেয়ারম্যানকে নির্বাচিত করেন। চেয়ারম্যান পর পর দুই বার এই পদে বসতে পারেন।

সোসাইটির সেক্রেটারিয়েট বড় মগবাজারের বিডিআরসিএস জাতীয় হেডকোয়ার্টারে অবস্থিত। সেক্রেটারিয়েটের দায়িত্বে থাকেন ম্যানেজিং বোর্ডের নির্বাচিত সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি ম্যানেজিং বোর্ডের সেক্রেটারি এক্স-অফিসিও। এছাড়াও সেক্রেটারি জেনারেলের অনুপস্থিতিতে তাঁর কাজ পরিচালনার জন্য ম্যানেজিং বোর্ড একজন ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত করে। সেক্রেটারিয়েট পাঁচটি বিভাগ নিয়ে তৈরি - দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সেবা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় সার্পোট সেবা এবং হিসাবরক্ষণ।
 

আমাদের বিস্তৃতি

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মেট্রোপলিটন শহরে একটি করে ইউনিট সহ মোট ৬৮টি ইউনিট নিয়ে তৈরি বিডিআরসিএস।
 

আমাদের বর্তমান কার্যক্রম

আইসিআরসি বাংলাদেশে সম্মিলিত ও সংগঠিত সশস্ত্র অত্যাচারে নিপীড়িত মানুষদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রদান করে। বিভিন্ন প্রশাসন, শিক্ষাকেন্দ্র, আইন রক্ষাকারী সংস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর মাঝে আন্তর্জাতিক মানবিকতা আইন সম্পর্কে জানানোর ও তা প্রণয়ন করার দায়িত্ব পালন করে আইসিআরসি। এছাড়াও এই সংস্থা এর জাতীয় পার্টনার বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ক্ষমতা উন্নয়নেও সহযোগিতা করে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ট্রেসিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আইসিআরসি ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট নিখোঁজ মানুষদের ফিরিয়ে দেয় তাদের স্বজনদের কাছে এবং বিদেশে আটকে পরা বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনার কাজেও সহায়তা করে। এছাড়াও দেশের সবচেয়ে দুঃস্থ ও পঙ্গুদের পুনর্বাসনের কাজও করে থাকে এই সংস্থা।

 

 

বিস্তারিতঃ http://www.bdrcs.org/

ছবি